BanglaMeds Blog

  • ভিটামিন ‘ডি’ কেন খাবেন

    আমাদের শরীরের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর উপাদানের মধ্যে একটি হলো ভিটামিন ‘ডি’। ভিটামিন ‘ডি’র অভাবে শিশুদের রিকেটস (হাড় বাঁকা), অস্টিও মেলাশিয়া, বয়স্কদের হাড় ক্ষয় ইত্যাদি হয়ে থাকে। ভিটামিন ‘ডি’ সূর্যের আলোক রশ্মির উপস্থিতিতে মানবদেহের চর্মে উৎপন্ন হয়। এ ছাড়া ভোজ্য তেল, দুগ্ধ ও দুগ্ধ জাতীয় খাদ্য, বিভিন্ন মাছের তেল, ডিমের কুসুম, মাখন, ঘি, চর্বি ও মাংসে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ‘ডি’ পাওয়া যায়। ভিটামিন ‘ডি’ অস্থি ও দাঁতের কাঠামো গঠন করে। অন্ত্রে ক্যালসিয়ামের শোষণ বাড়ায়, রক্ত প্রবাহে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

    ভিটামিন ‘ডি’ আগামী প্রজন্মের (শিশুদের) ভ্রূণ থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর অভাবে শিশুদের হাড় নরম হয়ে যায় ও বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। পায়ের হাড় ধনুকের মতো বেঁকে যায়, হাত ও পায়ে অস্থিসন্ধি বা গিট ফুলে যায়। বয়স্কদের ক্ষেত্রে অন্ত্রে ক্যালসিয়াম শোষণ বিঘ্ন ঘটে, থাইরয়েড গ্রন্থির কাজের পরিবর্তন ঘটে, অস্থি দুর্বল ও কাঠিন্য কমে যায়। ফলে হালকা আঘাতে অস্থি ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

    ভিটামিন ‘ডি’র অভাব প্রতিরোধ করতে শিশুকে প্রতিদিন ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে। পাশাপাশি শিশুকে কিছুক্ষণের জন্য সূর্যের নরম আলোয় বিশেষ করে সকাল ও বিকাল বেলা খেলাধুলা করতে দিতে হবে। এ ছাড়া শিশুদের পাশাপাশি বড়দের সূর্যের আলোয় প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫-২০ মিনিট থাকতে হবে ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে হবে। উপরোক্ত কোনো লক্ষণ দেখা গেলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

    ডা. সঞ্চিতা বর্মন
    লেখক: ত্বক, লেজার এন্ড এসথেটিক বিশেষজ্ঞ
    ১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ইং ০৮:৪৬ মিঃ; ইত্তেফাক

    by BanglaMeds - March 17, 2019
  • ত্বকের-শুষ্কতা-কমাতে-৭-উপায়

    কারও ত্বকের ধরনটাই শুষ্ক। শীতের শুষ্ক ও ঠান্ডা আবহাওয়ায় সেই শুষ্কতা আরও বাড়ে। ত্বক খুব বেশি শুষ্ক হয়ে পড়লে ফেটে যায়, চুলকায়, এমনকি রক্তও বেরোতে পারে। এ সমস্যা রোধে কিছু সতর্কতা জরুরি:
    ১. হালকা গরম পানিতে ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে গোসল সেরে নিন।
    ২. এই সময় ত্বক পরিষ্কার করতে বেশি ঘষাঘষি না করাই ভালো। ক্ষারমুক্ত বা ময়েশ্চারযুক্ত সাবান বা বডিওয়াশ ব্যবহার করুন।
    ৩. গোসল বা হাত-পা ধোয়ার পরপরই ময়েশ্চার বা লোশন লাগানো ভালো, ত্বক একটু ভেজা বা আর্দ্র থাকা অবস্থায়ই।
    ৪. পেট্রোলিয়াম জেলি হাতের তালুতে মাখিয়ে তারপর ত্বকে লাগান। এতে ত্বক বেশি চিটচিটে হবে না।
    ৫. ত্বক শুষ্ক হলে অনেক সময় চুলকায়। কখনোই নখ দিয়ে আঁচড়াবেন না বা জোরে চুলকাবেন না। লোশন বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগালে এই চুলকানি সেরে যায়।
    ৬. খসখসে কাপড় পরবেন না। কাপড় ধোয়ার ডিটারজেন্ট যেন বেশি ক্ষারযুক্ত না হয়।
    ৭. প্রচুর পানি পান করুন। তাজা ফলমূল ও শাকসবজি খান।

    ডা. মো. মনিরুজ্জামান
    চর্ম বিভাগ, বারডেম হাসপাতাল
    ০৮ জানুয়ারি ২০১৬, ০০:৫৫; প্রথম আলো

    by BanglaMeds - March 14, 2019
  • শীতে গোসল করবেন ঠান্ডা নাকি গরম পানি দিয়ে?

    শীত এলেই সবচেয়ে বেশি ভয় কাজ করে যে বিষয়টি নিয়ে সেটি হলো গোসল। সারাদিন যেমন-তেমন, গোসলের সময় এলেই যেন ভয়ে কাবু! কারণ হিম হিম এই আবহাওয়ায় পানিও ভীষণ ঠান্ডা হয়ে থাকে। তাই বলে তো গোসল না করেও থাকা যায় না। আর তাইতো শেষমেশ দ্বারস্থ হতে হয় গরম পানির। কিন্তু আপনি জানেন কি, ঠান্ডা পানিতে গোসল করার রয়েছে অনেক উপকারিতা। তাই একটু কষ্ট করে হলেও ঠান্ডা পানিতে গোসলটা সেরে নিন-

    ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে দেহের রক্ত প্রবাহমাত্রা বেড়ে যায়। ঠান্ডা পানির স্পর্শ পেলেই ত্বক সংকুচিত হয়ে আসে। কারণ এই সময় ত্বক কিছুটা তাপমাত্রা হারায়। ফলে রক্ত চলাচল কিছুটা ধীর গতিতে হওয়ার কারণেই রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং শিরা-উপশিরায় দ্রুত গতিতে ধাবিত হতে থাকে।

    ঠান্ডা পানি গায়ে ঢাললে শীত লাগে। এর কারণ হলো, ত্বক তার স্বাভাবিক তাপমাত্রা হারায়। বাইরের পরিবেশের তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য দেহ নিজেই তাপ উৎপন্ন করে। এর জন্য শরীরে সঞ্চিত কার্বোহাইড্রেট পোড়াতে হয়।

    ঠান্ডা পানির স্নানে প্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

    পেশির ক্ষত নিরাময়েও সাহায্য করে কনকনে ঠান্ডা পানিতে গোসল।

    ঠান্ডা পানি মুহূর্তেই দেহের সতেজতা ফিরিয়ে আনে। এতে অনিদ্রা রোগের উপশম হয়।

    ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে অনেক পুরনো ব্যথা হ্রাস পায়। দেহের অস্বস্তিকর উত্তেজনা প্রশমিত হয় এবং স্নায়বিক দুর্বলতা দূর হয়।

     

    Source: http://www.lifeguidebd.net

    by BanglaMeds - November 20, 2018

What's Popular

Editor's Choice

  • ভিটামিন ‘ডি’ কেন খাবেন

    by BanglaMeds - March 17, 2019

    আমাদের শরীরের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর উপাদানের মধ্যে একটি হলো ভিটামিন ‘ডি’। ভিটামিন ‘ডি’র অভাবে শিশুদের রিকেটস (হাড় বাঁকা), অস্টিও মেলাশিয়া, বয়স্কদের হাড় ক্ষয় ইত্যাদি হয়ে থাকে। ভিটামিন ‘ডি’ সূর্যের আলোক রশ্মির উপস্থিতিতে মানবদেহের চর্মে উৎপন্ন হয়। এ ছাড়া ভোজ্য তেল, দুগ্ধ ও দুগ্ধ জাতীয় খাদ্য, বিভিন্ন মাছের তেল, ডিমের কুসুম, মাখন, ঘি, চর্বি ও মাংসে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ‘ডি’ পাওয়া যায়। ভিটামিন ‘ডি’ অস্থি ও দাঁতের কাঠামো গঠন করে। অন্ত্রে ক্যালসিয়ামের শোষণ বাড়ায়, রক্ত প্রবাহে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

    ভিটামিন ‘ডি’ আগামী প্রজন্মের (শিশুদের) ভ্রূণ থেকে ১৮ মাস পর্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর অভাবে শিশুদের হাড় নরম হয়ে যায় ও বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। পায়ের হাড় ধনুকের মতো বেঁকে যায়, হাত ও পায়ে অস্থিসন্ধি বা গিট ফুলে যায়। বয়স্কদের ক্ষেত্রে অন্ত্রে ক্যালসিয়াম শোষণ বিঘ্ন ঘটে, থাইরয়েড গ্রন্থির কাজের পরিবর্তন ঘটে, অস্থি দুর্বল ও কাঠিন্য কমে যায়। ফলে হালকা আঘাতে অস্থি ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

    ভিটামিন ‘ডি’র অভাব প্রতিরোধ করতে শিশুকে প্রতিদিন ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার দিতে হবে। পাশাপাশি শিশুকে কিছুক্ষণের জন্য সূর্যের নরম আলোয় বিশেষ করে সকাল ও বিকাল বেলা খেলাধুলা করতে দিতে হবে। এ ছাড়া শিশুদের পাশাপাশি বড়দের সূর্যের আলোয় প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫-২০ মিনিট থাকতে হবে ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে হবে। উপরোক্ত কোনো লক্ষণ দেখা গেলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

    ডা. সঞ্চিতা বর্মন
    লেখক: ত্বক, লেজার এন্ড এসথেটিক বিশেষজ্ঞ
    ১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ইং ০৮:৪৬ মিঃ; ইত্তেফাক

    Read More
  • ত্বকের-শুষ্কতা-কমাতে-৭-উপায়

    by BanglaMeds - March 14, 2019

    কারও ত্বকের ধরনটাই শুষ্ক। শীতের শুষ্ক ও ঠান্ডা আবহাওয়ায় সেই শুষ্কতা আরও বাড়ে। ত্বক খুব বেশি শুষ্ক হয়ে পড়লে ফেটে যায়, চুলকায়, এমনকি রক্তও বেরোতে পারে। এ সমস্যা রোধে কিছু সতর্কতা জরুরি:
    ১. হালকা গরম পানিতে ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে গোসল সেরে নিন।
    ২. এই সময় ত্বক পরিষ্কার করতে বেশি ঘষাঘষি না করাই ভালো। ক্ষারমুক্ত বা ময়েশ্চারযুক্ত সাবান বা বডিওয়াশ ব্যবহার করুন।
    ৩. গোসল বা হাত-পা ধোয়ার পরপরই ময়েশ্চার বা লোশন লাগানো ভালো, ত্বক একটু ভেজা বা আর্দ্র থাকা অবস্থায়ই।
    ৪. পেট্রোলিয়াম জেলি হাতের তালুতে মাখিয়ে তারপর ত্বকে লাগান। এতে ত্বক বেশি চিটচিটে হবে না।
    ৫. ত্বক শুষ্ক হলে অনেক সময় চুলকায়। কখনোই নখ দিয়ে আঁচড়াবেন না বা জোরে চুলকাবেন না। লোশন বা পেট্রোলিয়াম জেলি লাগালে এই চুলকানি সেরে যায়।
    ৬. খসখসে কাপড় পরবেন না। কাপড় ধোয়ার ডিটারজেন্ট যেন বেশি ক্ষারযুক্ত না হয়।
    ৭. প্রচুর পানি পান করুন। তাজা ফলমূল ও শাকসবজি খান।

    ডা. মো. মনিরুজ্জামান
    চর্ম বিভাগ, বারডেম হাসপাতাল
    ০৮ জানুয়ারি ২০১৬, ০০:৫৫; প্রথম আলো

    Read More
  • শীতে গোসল করবেন ঠান্ডা নাকি গরম পানি দিয়ে?

    by BanglaMeds - November 20, 2018

    শীত এলেই সবচেয়ে বেশি ভয় কাজ করে যে বিষয়টি নিয়ে সেটি হলো গোসল। সারাদিন যেমন-তেমন, গোসলের সময় এলেই যেন ভয়ে কাবু! কারণ হিম হিম এই আবহাওয়ায় পানিও ভীষণ ঠান্ডা হয়ে থাকে। তাই বলে তো গোসল না করেও থাকা যায় না। আর তাইতো শেষমেশ দ্বারস্থ হতে হয় গরম পানির। কিন্তু আপনি জানেন কি, ঠান্ডা পানিতে গোসল করার রয়েছে অনেক উপকারিতা। তাই একটু কষ্ট করে হলেও ঠান্ডা পানিতে গোসলটা সেরে নিন-

    ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে দেহের রক্ত প্রবাহমাত্রা বেড়ে যায়। ঠান্ডা পানির স্পর্শ পেলেই ত্বক সংকুচিত হয়ে আসে। কারণ এই সময় ত্বক কিছুটা তাপমাত্রা হারায়। ফলে রক্ত চলাচল কিছুটা ধীর গতিতে হওয়ার কারণেই রক্তচাপ বেড়ে যায় এবং শিরা-উপশিরায় দ্রুত গতিতে ধাবিত হতে থাকে।

    ঠান্ডা পানি গায়ে ঢাললে শীত লাগে। এর কারণ হলো, ত্বক তার স্বাভাবিক তাপমাত্রা হারায়। বাইরের পরিবেশের তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য দেহ নিজেই তাপ উৎপন্ন করে। এর জন্য শরীরে সঞ্চিত কার্বোহাইড্রেট পোড়াতে হয়।

    ঠান্ডা পানির স্নানে প্রতিরোধক ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

    পেশির ক্ষত নিরাময়েও সাহায্য করে কনকনে ঠান্ডা পানিতে গোসল।

    ঠান্ডা পানি মুহূর্তেই দেহের সতেজতা ফিরিয়ে আনে। এতে অনিদ্রা রোগের উপশম হয়।

    ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে অনেক পুরনো ব্যথা হ্রাস পায়। দেহের অস্বস্তিকর উত্তেজনা প্রশমিত হয় এবং স্নায়বিক দুর্বলতা দূর হয়।

     

    Source: http://www.lifeguidebd.net

    Read More
  • ‘মাইগ্রেন’ | এ এক অসহনীয় যন্ত্রণার আরেক নাম!!

    by BanglaMeds - November 6, 2018

    কাজের চাপে কিংবা মানসিক চাপে অনেকেরই মাথাব্যথা হয়। প্যারাসিটামল খেয়ে নিলে বা একটু বিশ্রামে সেটি ভালো হয়ে যায় বেশিরভাগ সময়। কিন্তু মাইগ্রেন নামের ভয়ানক মাথাব্যথা মোটেও সাধারণ মাথাব্যথা নয়। অথচ সাধারন মাথাব্যথা মনে করে অনেকেই দিনের পর দিন মাইগ্রেন-কে অবহেলা করেন। চলুন জেনে নেয়া যাক মাইগ্রেন সম্পর্কে জরুরী কিছু তথ্য।

    মাইগ্রেন কী?

    মাইগ্রেন মূলত একধরনের মাথাব্যথা। তবে সাধারণ মাথাব্যথার থেকে মাইগ্রেনের পার্থক্য হলো মাইগ্রেন-এ ব্যথা হয় মাথার একদিকে। অর্থাৎ মাইগ্রেন-এ আক্রান্ত হলে আপনার মাথার বাম কিংবা ডানদিকে ব্যথা হবে, আর অন্যদিকে তেমন কোনো ব্যথাই অনুভব করবেন না। মাইগ্রেন-এর ব্যথা হলে শব্দ, আলো এবং গন্ধের প্রতি সহনশীলতা কমে যায়। খুব অল্প শব্দ বা আলোয় অসহ্য অনুভূতি হয়।

    কাদের হয়? কখন হয়?

    বয়ঃসন্ধির আগে মেয়েদের থেকে ছেলেদের মাইগ্রেন হবার সম্ভাবনা বেশি থাকলেও পরবর্তীতে ছেলেদের থেকে ২-৩ গুণ বেশি মেয়েদের মাইগ্রেন হয়। আবার অনেক মেয়েদের ক্ষেত্রে রজঃচক্র (menstrual cycle) শেষ হবার পর মাইগ্রেন-এ আক্রান্ত হবার হার অনেক কমে যায় বলেও দেখা গেছে। তবে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মধ্যবয়সে (৩৫-৪০ বছর) মাইগ্রেন-এ আক্রান্ত হবার হার অন্য বয়সের থেকে অনেক বেশি।

    মাইগ্রেন-এর কারণ

    ঠিক কী কারণে মাইগ্রেন হয় তা পুরোপুরি জানা যায় নি। তবে এটি বংশগত বা অজ্ঞাত কোন কারণে হতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় আক্রান্ত ব্যক্তির বংশে মাইগ্রেন-এ আক্রান্ত অন্য কেউ রয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে হরমোনের প্রভাব রয়েছে বলেও কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে। এই কারণেই বিভিন্ন বয়সে নারী-পুরুষের আক্রান্ত হবার হারের পার্থক্য দেখা দেয়।

    এর বাইরেও বিকট শব্দ, তীব্র আলো, প্রচন্ড গরম কিংবা বিশেষ কিছু খাবারের কারণেও মাইগ্রেন হতে পারে। জন্মবিরতিকরণ ওষুধ, দুশ্চিন্তা, অতিরিক্ত ভ্রমণ, ব্যায়াম, অনিদ্রা, অনেকক্ষণ টিভি দেখা, দীর্ঘসময় কম্পিউটার-এ কাজ করা, মোবাইলে কথা বলা ইত্যাদি কারণেও এ রোগ হতে পারে।

    লক্ষণসমুহ

    এ মাথাব্যথা শুরু হলে তা কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। মাইগ্রেন-এর মূল লক্ষণ মাথার এক দিকে ব্যথা হলেও ব্যথা শুরুর আগে থেকেই কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। অনেকের চোখে আলোর ঝলকানি দেখা দিয়ে শুরু হয় তারপর ধীরে ধীরে ব্যথা বাড়তে থাকে। আবার মাইগ্রেন-এর তীব্রতার উপরও লক্ষণের পার্থক্য দেখা যায়। তবে সবার এরকম হয় না। মাইগ্রেন-এর সাধারণ কিছু লক্ষণ-

    • আলো বা শব্দের প্রতি সহনশীলতায় পরিবর্তন
    • চোখের পেছন দিকে ব্যথা
    • বমি বমি ভাব
    • বমি

    চিকিৎসা

    মাইগ্রেন সমস্যা চিরতরে দূর করার কোন উপায় এখনো আবিষ্কার হয় নি। তবে ব্যথা হলে তা কমানোর জন্য বেশ কিছু ওষুধ রয়েছে। সাধারণ প্যারাসিটামল-এও অনেকের ব্যথা কমে যায়, তবে ব্যথার তীব্রতা অনুযায়ী এসপিরিন, ডাইক্লোফেনাক, আইবুপ্রোফেন জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হয়। ব্যথার তীব্রতা অনুযায়ী ওষুধের ধরণ ও মাত্রা পরিবর্তন করা হয়। বমি ভাব নিয়ন্ত্রণ করার জন্য স্টেমেটিল বা ভার্গন জাতীয় ওষুধ খাওয়া যেতে পারে। তবে কোন ওষুধ খাওয়া উচিত সে ব্যাপারে চিকিৎসকের পরামর্শ অবশ্যই নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনই কোন ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। মাইগ্রেন-এর ব্যথা হলে কোন ওষুধ খেতে হবে তা সাধারণত চিকিৎসক আগেই বলে দেন। সে অনুযায়ী চললেই হবে।

    তবে ওষুধের পাশাপাশি মাইগ্রেন-এর ব্যথার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যথাসম্ভব অন্ধকার ও শব্দবিহীন পরিবেশে ঘুমানো, অন্তত কয়েক ঘণ্টা। যেহেতু মাইগ্রেন-এর ব্যথায় আলো ও শব্দের প্রতি সহনশীলতা অনেক কমে যায়, সেক্ষেত্রে খুব অল্প শব্দ বা আলোতেও ব্যথার তীব্রতা বেড়ে যেতে পারে। সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

    প্রতিরোধ

    বয়সের সাথে মাইগ্রেন-এর তীব্রতা বা ঘন ঘন আক্রমণ কমে গেলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সারাজীবন মাইগ্রেন-এর ব্যথা হবার ভয় থেকেই যায়। কোনো প্রকার ওষুধ ছাড়াই একটু নিয়মানুবর্তী হলেই মাইগ্রেন-এর আক্রমণ অনেকটা কমিয়ে ফেলা সম্ভব। চলুন জেনে নেয়া যাক মাইগ্রেন প্রতিরোধের কিছু উপায়।

    • খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন যেমন, ডার্ক চকলেট, কফি, ইত্যাদি এড়িয়ে চলা ভালো।
    • জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি যারা সেবন করেন, মাইগ্রেন-এর ব্যথার প্রকোপ বেড়ে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে বড়ি সেবন বন্ধ করে দিতে হবে।
    • দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপ মুক্ত থাকতে হবে।
    • দীর্ঘক্ষণ যাবত টিভি দেখা, কম্পিউটার-এ কাজ করা, মোবাইলে কথা বলা ইত্যাদি থেকে বিরত থাকতে হবে।
    • অনিদ্রা জনিত সমস্যা বা রাত জাগার বাজে অভ্যাস থাকলে তা পরিবর্তন করতে হবে।
    • কড়া রোদ বা তীব্র ঠাণ্ডা পরিহার করতে হবে।
    • মাইগ্রেন শুরু হয়ে গেলে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা (বিশেষ করে বমি হয়ে থাকলে), বিশ্রাম করা, ঠান্ডা কাপড় মাথায় জড়িয়ে রাখা উচিত।
    • গর্ভাবস্থাতেও মাইগ্রেন-এর সমস্যা হতে পারে ঘন ঘন। সেক্ষেত্রে ডাক্তারকে প্রথমেই মাইগ্রেন-এর ব্যাপারে জানিয়ে রাখা দরকার।
    • হাসি-খুশি থাকার চেষ্টা করতে হবে, জীবনের আনন্দকে উপভোগ করতে হবে।

    আরো কিছু কথা-

    মাইগ্রেন-এর ব্যথা সাধারণত মাথার যে কোন একপাশে হয়ে থাকলেও একবার ব্যাথা একপাশে শুরু হলে কিছুদিন পর অন্যপাশেও হতে পারে। অনেকেই আছেন সাইনুসাইটিস বা সাইনাস এবং মাইগ্রেন-এর ব্যথা মিলিয়ে ফেলেন। আদতে তা নয়, বরং দুটি সম্পুর্ন ভিন্ন অসুখ। তাই চিকিৎসা শুরু করার আগে নিশ্চিত হয়ে নিতে হবে যে আসলে কোনটি হয়েছে।

    মাথা যখন আছে, ব্যথা তখন হবেই। কিন্তু মাথাব্যথা সবার হলেও মাইগ্রেন-এর তীব্রতা বেশীরভাগ মানুষকেই সহ্য করতে হয় না। মাইগ্রেনের ব্যথা যে সাধারণ মাথাব্যথা নয় আর এটি যে জীবন্ত অবস্থায় নরকের শাস্তির মতো, সেটি মাইগ্রেন-এ আক্রান্ত যে কেউ বিনা বাক্যে মেনে নেবেন। তাই নিজের সুবিধার জন্যই আশেপাশের মানুষকে মাইগ্রেন-এর ব্যাপারে সচেতন করাটা অত্যন্ত জরুরী।

     

    লিখেছেন- ডাঃ মারুফা আক্তার

    Read More
  • ডায়াবেটিস থেকে মুক্তির সহজ উপায়

    by BanglaMeds - October 24, 2018

    ডায়াবেটিস সমগ্র বিশ্বে বর্তমানে একটি মারাত্মক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশ ও সমগ্র ভারত জুড়ে এ সমস্যা বর্তমানে ক্রমাগত বেড়েই চলছে।

    নারী ও পুরুষদের অনেকেই অসতর্ক অবস্থায় ডায়াবেটিস সমস্যাকে বয়ে বেড়াচ্ছেন। আপনি হয়তো জানেন না, আপনার জীবনের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা আজকের এই রোগটি আপনার ভবিষ্যতের জন্যও সমানভাবে হুমকি। সেটি কিভাবে?

    কিন্তু দুঃখের বিষয যে, আধুনিক জীবনেরে গাঁ বেয়ে ওঠা সমস্যাটি আপনার শিশুর ওপরও ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

    সম্প্রতি প্রকাশিত একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ভারতের অধিকাংশ লোক অন্যান্য দেশের লোকদের তুলনায় দুই ধরনের ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন। প্রতিদিন ওষুধ খাওয়া কেউ পছন্দ করে না। ইনসুলিন ও ডায়ালাইসিস এক্ষেত্রে খুবই বিরক্তিকর এক অভিজ্ঞতা ছাড়া আর কি!

    আপনি হয়তো কোনো ভুল ধারণার মধ্যে আছেন, তাই হয়তো মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলছেন। মিষ্টি ডায়াবেটিসের একমাত্র কারণ নয়। দুশ্চিন্তা ও জিন বা বংশগত প্রভাবও ডায়াবেটিস হবার জন্য দায়ী। কিন্তু বংশগত কারণে আপনার যদি ডায়াবেটিস হয়, সেক্ষেত্রে অবশ্য তেমন কিছু আপনার করার থাকবে না।

    ডায়াবেটিস থেকে রক্ষার জন্য প্রতিদিন ওষুধ খেতে হবে না আপনাকে। শুধু সামান্য কিছু পরিবর্তন আনতে হবে আপনার জীবনে। ডায়াবেটিস প্রতিরোধের জন্য আপনি আপনার বাসায় এই নিয়মগুলো মেনে চলুন, আশা করা যায়, অতি দ্রুতই আপনি দুঃশ্চিন্তামুক্ত, সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবেন। এসব ওষুধ গ্রহণের চেয়ে ফল বা শাকসবজি খাওয়া কি ভালো নয়!

    খালি পেটে ফলের রস পান করা, কিংবা ফল খাওয়া ডায়াবেটিস রোধে খুবই কার্যকর। তবে দেখা গেছে, স্বাদে তিতা ফলের রস খেলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে করোল্লা বা উচ্ছা জাতীয় খাবার সাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী। এগুলো জুস বা ভাঁজি করে খাওয়া যেতে পারে। এজন্য অবশ্য আপনার নিয়মিত খাবারের তালিকা পরিবর্তনের দরকার হবেনা।

    # প্রতিরাতে শোবার আগে পানিতে কয়েকটি মেথির বীজ ভিজিয়ে রাখুন। সকালে ব্রাশ করার পর খালি পেটে ওই বীজগুলো আগে খেয়ে ফেলুন।

    # জামরুল ফল ডায়াবেটিস সারানোর জন্য অত্যন্ত উপকারি ফল। এর কিছু বীজ ধুয়ে শুকিয়ে, তারপর গুড়া করে পানির সঙ্গে মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

    # পেয়ারা এমন একটি ফল, যেটি প্রায় সারা বছরই পাওয়া যায়। সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় এটি স্পষ্ট যে, ভিটামিন 'সি' সমৃদ্ধ এই ফলটির খোসা রক্তে চিনির মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, তাই আপনার জন্য এর খোসা না খাওয়াই ভালো।

    # আমলা জাতীয় ফল রক্তে চিনির মাত্রা কমিয়ে থাকে।

    # আপনার চা বা কফিতে চিনির পরিবর্তে মধু দিন।

    গবেষণায় প্রমাণিত, চিনি ছাড়া ব্ল্যাক কফি পান করলে দু'ধরনের ডায়াবেটিসের ঝুঁকি থাকে না। এছাড়া গ্রিন চাও শরীরের রক্তে চিনি ও ইনসুলিনের মাত্রা কমাতে বিশেষ সাহায্য করে।

    Read More
  • Fruit Juice: Is It Good Or Bad For Diabetics?

    by BanglaMeds - October 22, 2018

    As per an article which appeared on Netmeds. One of the most common doubts faced by diabetics is how to get their daily dose of vitamins, minerals and calcium various fruits have to offer? Is it in the form of whole fruit or juice?

    Juicing-for-Diabetes-Is-It-a-Good-Idea

    Diabetologists strongly recommend consuming whole fruits rather than in the form of juices. Fruit juices are loaded with a large amount of sugar which raise blood glucose levels very rapidly.

    A glass of sugarless orange juice contains around 100 calories, as compared to 60 calories in a whole orange. Fructose, the fruit sugar is more in 125ml of fruit juices much more than the recommended daily allowance of sugar.

    Citrus fruits contain Vitamin C and calcium, but when made into juices, the content of fibre decreases considerably.

    How Does Fruit Juice Affect Blood Sugar?

    The sugar-loaded fruit juices can cause a remarkable spike in blood glucose levels and can increase the risk of hyperglycaemia.

    Glycemic index (GI) is the ranking of carbohydrate in food according to how they affect the blood glucose levels. Generally, a low GI of less than 55 is the most preferred choice of food for diabetics.

    The main sugar present in fruit juice is called fructose. Fructose is processed in the liver and research suggests that a diet high in fructose burdens the liver, leading to problems such as non-alcoholic fatty liver disease and type 2 diabetes.

    whole-fruit-or-fruit-juice-diabetes

    Therefore, over consumption of fruit juices or taking fruit juice in addition to a high sugar diet may increase the risk of health issues.

    For instance, orange juice scores between 66-76 and falls under a high GI drink. High GI foods and drinks should be avoided by the diabetics to keep their sugar levels under control.

    Fruit juices can be beneficial in treating a person who is hypoglycemic to rapidly raise their blood sugar levels. 

    Whole Fruit Is A Better Option Than Fruit Juice

    It is always better to take whole fruit than fruit juice, as the soluble fibre in fruit aids in improving digestion and slows the rate of the rise in blood sugar.

    The key point is that whole fruit is the preferred choice for diabetics, and to be taken in moderate amounts.

    Diabetics can eat guava, papaya, citrus fruits like orange, sweet lime and black plums.

    Read More
  • এলার্জি থেকে মুক্তির উপায়

    by BanglaMeds - October 15, 2018

    এলার্জি এক অসহনীয় সমস্যার নাম। এলার্জিতে হাঁচি থেকে শুরু করে খাদ্য বা ওষুধের ওপর ভীষণ প্রতিক্রিয়া এমনকি শ্বাসকষ্টও হতে পারে। কারো কারো ক্ষেত্রে এলার্জি সামান্য অসুবিধা সৃষ্টি করে আবার কারও কারও ক্ষেত্রে জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে। ঘরের ধুলাবালি, ফুলের ঘ্রাণ, গরুর মাংস, চিংড়ি, ইলিশ, গরুর দুধ ইত্যাদি সাধারণ ব্যাপারে গা চুলকানি শুরু হলে অথবা চামড়ায় লাল লাল চাকা হয়ে ফুলে ওঠলে ধরে নিতে হবে আপনার এলার্জি আছে। চলুন জেনে নেই এলার্জি থেকে বাঁচতে কিছু করণীয়-

    বিছানার ডাস্ট মাইট থেকে পরিত্রাণ পেতে বিছানার চাদর, বালিশের কভার, মশারি ইত্যাদি ভালো করে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে। এছাড়া ঘরের চারপাশে মেঝে ভালোভাবে পানি ও ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। প্রতিদিন উঠোনে বা বেলকনিতে আসা রোদে লেপ, কম্পল ইত্যাদি ভালোভাবে শুকিয়ে নেয়া যেতে পারে কারণ রোদের আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মিতে হাউস ডাস্ট মাইট মরে যায়।

    প্রতিদিন ঘর পরিষ্কার করার সময় কিছু ময়লা বইয়ের সেলফে জমে থাকে এবং জমে থাকা ময়লা অ্যালার্জেন সৃষ্টি করে। দু-এক দিন পর পর বইগুলো নাড়াচাড়া করলে সেলফে থাকা ডাস্ট চলে যাবে।

    এক সপ্তাহ পর পর ভেজা কাপড় দিয়ে দরজা এবং জানালা পরিষ্কার করা উচিত। সেইসঙ্গে দরজা এবং জানালার পর্দা মাঝে মধ্যে ভালোভাবে ধুতে হবে।

    গোসলখানার জানালা খোলা রাখতে হবে যাতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে। গোসলখানা যাতে ভেজা না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। নিয়মিত গোসলখানার মেঝে, বাথটাব ও প্যান ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।

    বাসায় পশুপাখি থাকলে প্রতিদিন গোসল করাতে হবে। পশুপাখি যে জায়গায় থাকে সেই জায়গাটা প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে। অবশ্যই খাওয়ার পর উচ্ছিষ্ট খাবার ফেলে দিতে হবে। প্রতিদিন সকালে নিয়মিত পশুপাখিকে গোসল করালে এবং থাকার জায়গা পরিষ্কার করলে ভালো।

     

    রান্না ঘরের ময়লা-আবর্জনা থেকে মুক্ত হতে প্রতিদিন পরিষ্কার করতে হবে। ফ্লোর ক্লিনার ও গরম পানি দিয়ে রান্না ঘর নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে।

    শিশুদের খেলনা, বিভিন্ন শোপিস, জুতা, ফ্যান, এসি, ঝাড়বাতি ইত্যাদিতে ধুলোবালি জমে অ্যালার্জি হতে পারে। তাই নিয়মিত এসব পরিষ্কার করতে হবে।

    Read More
  • গরমে হিট স্ট্রোক থেকে বাঁচতে করনীয়

    by BanglaMeds - October 9, 2018

    গরমে নাজেহাল অবস্থা। বাড়ি থেকে বাইরে বেরনোর কথা ভাবলেই গায়ে যেন জ্বর এসে যাচ্ছে। অস্বাভাবিক গরমে শরীরের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া গুবলেট হওয়ার যোগাড়। অনেক সময়ই ঘটে যাচ্ছে ‘হিটস্ট্রোকের’ মতো ঘটনাও। কিন্তু হিটস্ট্রোকের কবলে পড়া থেকে নিজেকে বাঁচানোর সমাধান রয়েছে।

    হিট স্ট্রোকের লক্ষণ

    প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মাথাব্যথা, ত্বক লাল হয়ে যাওয়া, ক্লান্ত হয়ে পড়া, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া, মাথা ঘুরতে থাকা, মাংসপেশিতে ব্যথ্যা ইত্যাদি। তাত্ক্ষণিক চিকিৎসা না নিলে রোগী অজ্ঞান হয়ে যায়। শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপরে উঠে যায়। হৃদযন্ত্র বিকল হলে রক্তচাপ কমতে থাকে। ফুসফুসের ওপর চাপ পড়ায় শ্বাস-প্রশ্বাস কমে যায়। কিডনি কাজ না করায় প্রস্রাব বন্ধ হয়ে যায়।

    হিট স্ট্রোক প্রতিরোধে

    ১. গরমের সময় সারা দিনই একটু পর পর প্রচুর পানি পান করুন। প্রচণ্ড গরমে এর পরিমাণ হতে পারে তিন লিটারেরও বেশি।
    ২. প্রচণ্ড রোদ ও গরম পরিহার করুন। কাজ করুন খোলা হাওয়া কিংবা স্বস্তিকর পরিবেশে।
    ৩. ঢিলেঢালা ও হালকা রঙের সুতির পোশাক পরুন। এমন পোশাক পছন্দ করুন, যার ভেতর বাতাস ঢুকতে পারে।
    ৪. একাধিকবার গোসল করুন। রোদে গেলে ছাতা ব্যবহার করুন।
    ৫. শিশু ও বয়স্কদের বেলায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
    ৮. প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক হোন। প্রস্রাবের রং খেয়াল করুন। গাঢ় রঙের হলে আরো বেশি করে পানি খান।

    হিট স্ট্রোক হলে করণীয়

    ১. রোগীকে ফ্যানের বা এসির নিচে ঠাণ্ডা পরিবেশে আনতে হবে। রাস্তাঘাটে ফ্যান/এসি পাওয়া না গেলে জোরে বাতাস করতে হবে।
    ২. সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে পর্যাপ্ত পানি পান করাতে হবে।
    ৩. শরীরের তাপমাত্রা কমানো জরুরি। এ জন্য মাথা ও শরীরে পানি ঢালা যেতে পারে।
    ৪. দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে

    Read More
  • গরমে প্রতিদিন কি পরিমাণ পানি পান করবেন?

    by BanglaMeds - September 20, 2018

    শরীর সুস্থ্য রাখতে হলে আপনাকে পানি খেতে হবে। তবে এই গরমে প্রতিদিন আপনাকে কতোটুুকু পানি পান হবে তা কিন্তু আপনার জানা নেই। জেনে নিন বিষয়টি।

    শরীর সুস্থ রাখতে পানির কোনো বিকল্প কিছু নেই। তবে শুধু পানি পান করলেই হবে না, পানি পান করারও রয়েছে কিছু নিয়মকানুন। অ্যাপোলো হাসপাতালের পুষ্টিবিদ তামান্না চৌধুরী সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন বিষয়টি নিয়ে। তাছাড়া নিয়ম মেনে পানি পানে শরীরের নানা সমস্যা দূর হতে পারে।

    প্রতিদিন অন্তত দুই লিটার পানি পান করুন

    প্রতিদিন অন্তত দুই লিটার পানি দেহকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। অনেককেই, প্রতিদিন দুই লিটার পানি তো খাচ্ছেন, পাশাপাশি অন্যান্য ফলের রসও খেয়ে যাচ্ছেন। এতে করে শরীরে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি পানি খাওয়া হয়ে যায়; এতে করে কিডনিতে প্রভাব ফেলে। খেয়াল রাখতে হবে, প্রতিদিন যেকোনো ধরনের পানীয়সহ পানি পানের পরিমাণ যাতে ২ লিটারের বেশি না হয়।

    খাওয়ার মাঝখানে পানি নয়

    খাওয়ার মাঝখানে পানি খাওয়া মোটেও ঠিক নয়, এতে হজম-প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। তাই যেকোনো খাবার খাওয়ার পর অন্তত ২০/৩০ মিনিট সময় বিরতি দিয়ে তারপর পানি পান করুন।

    হালকা কুসুম গরম পানি

    এক কাপ হালকা কুসুম গরম পানিতে লেবু ভালোকরে চিপে নিন। প্রতিদিন ঘুম হতে উঠার পর খালি পেটে পানিটুকু খেয়ে ফেলুন। এতে শরীরের বিপাক গতি বেড়ে যাবে; যা শরীরের ওজন কমাতে বিশেষভাবে সাহায্য করে।

    গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা হলে

    যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে, তারা সকালে খালি পেটে দুই গ্লাস পানি পান করলে বিশেষ উপকার পাবেন।এতেকরে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও দূর হবে।

    বাইরে থেকে এসেই পানি পান না

    অনেকেই গরমে বাইরে হতে এসেই ঠাণ্ডা পানি পান করে ফেলেন। হয়তো তাৎক্ষণিক আপনার ভালো লাগে। কিন্তু এটি মোটেও ভালো কাজ নয়। গরমের মধ্যে বাইরে থেকে এসে কখনও এই কাজটি করা যাবে না। কারণ হলো এতে করে ঠাণ্ডা লাগার আশঙ্কা থেকে যাবে।
    source:The Dhaka Times

    Read More
  • এই গরমে সুস্থ থাকুন

    by BanglaMeds - August 27, 2018

    এখন বর্ষাকাল চললেও গরমটা একটু বেশি। এই গরমে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি আমাদের দেহে বিরূপ প্রভাব ফেলে। আবহাওয়ার তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের অভ্যন্তরে তাপমাত্রা বেড়ে Basal Metabolic Rate বেড়ে যায়। এর ফলে শারীরিক গোলযোগ দেখা দেয়। শরীরে হরমোন ও এনজাইমের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়। গরমে শরীরে প্রচুর ঘাম হয়। ঘামের সঙ্গে প্রচুর পানি এবং প্রয়োজনীয় উপাদান লবণ দেহ থেকে বেরিয়ে যায়। ভীষণ দাবদাহ আর সূর্যের প্রখর রোদের সঙ্গে যুদ্ধ করে আমাদের ত্বক ও চুল স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারায়। ত্বকে আর্দ্রতা কমে শুষ্ক হয়ে যায়। বিভিন্ন চর্মরোগ দেখা দেয়। রোদে পুড়ে কালো হয়ে যায় মুখ, ঘাড়, গলা, হাত ও পায়ের পাতার উপরিভাগ।

    মেনে চলুন কিছু নিয়ম

    ► এই গরমে অতিরিক্ত পরিশ্রম ও ঘাম ঝরিয়ে ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকুন। খুব ভোরে খোলা বাতাসে হেঁটে আসুন। ফিটনেস বজায় রাখার জন্য সাঁতার কাটতে পারেন। যোগব্যায়াম, মেডিটেশনও করতে পারেন। ধীরে ধীরে শ্বাস-প্রশ্বাস
    নিন। এতে দেহ যেমন ঠাণ্ডা থাকবে, মনেও শান্তি থাকবে।

    ► প্রখর সূর্যালোক যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। বাইরে বেরোনোর ২০ মিনিট আগে শরীরের অনাবৃত অংশে সানস্ক্রিন লোশন মেখে নিন। বাইরে বেরোনোর সময় ছাতা, স্কার্ফ, সানগ্লাস ব্যবহার করুন। সঙ্গে বিশুদ্ধ পানি রাখুন।

    ► সারা দিনে পানিশূন্যতা কমাতে তিন-চার লিটার পানি পান করুন। শরীরে লবণের পরিমাণ ঠিক রাখতে খাওয়ার স্যালাইন, ডাবের পানি, গ্লুকোজ গ্রহণ করুন।

    ► চা, কফি, কোমলপানীয়ের পরিহার কমিয়ে লেবুর শরবত, আখের রস, ডাবের পানি, তরমুজ, পেঁপে ও বেলের শরবত নিয়মিত পান করুন।

    ► প্রতি বেলার খাদ্যতালিকায় টক দই ও সালাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করুন। হালকা সহজপাচ্য কম মসলাযুক্ত খাবার, শাকসবজি, স্যুপ, মাছের ঝোল, ডাল, টমেটোর টক খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

    ► গরমের সময় ডিম, মাংস, চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন।

    গরমে-সুস্থ-থাকুন

    ► এ সময় হালকা রংয়ের আরামদায়ক সুতির পোশাক নির্বাচন করুন। কেননা সারা দিন বাইরে থাকার ফলে শরীরে যে ঘাম হয়, সুতির পোশাক তা সহজেই শোষণ করে নেয়। আরামদায়ক, খোলা জুতা ব্যবহার করুন।

    ► গরমের দিনে বারবার ঠাণ্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিন। প্রতিদিন অন্ততপক্ষে দুবেলা গোসল করুন। বাইরে বেরোনোর সময় হালকা প্রসাধনী ব্যবহার করুন। বেশি প্রসাধনী মুখে ভারী আবরণ তৈরি করে ত্বকে সমস্যা সৃষ্টি করে।

    ► ঘরে হালকা রংয়ের পর্দা এবং বিছানায় হালকা রঙের চাদর ব্যবহার করুন। ফোমের বালিশ ব্যবহার না করে শিমুল তুলার বালিশ ব্যবহার করুন। দিনের বেলায় ঘরে বাতি নিভিয়ে রাখুন। ঘরে দু-একটি টবে গাছ রাখুন।

    ► স্নিগ্ধ সতেজতা আনতে ঘরে বেলি ফুল রাখুন। বাইরে বেরোনোর সময় হাতে বেলি ফুলের মালা জড়িয়ে রাখুন, দেখবেন স্নিগ্ধ সুরভি আর অপার প্রশান্তিতে ভরে গেছে মন।

    সুত্রঃ
    লেখক : কনসালট্যান্ট
    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

    Read More

1-10 of 29

Page:
  1. 1
  2. 2
  3. 3